“বাংলার প্রকল্পকে বিজেপি টুকলি করছে”- নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে বিরোধী শিবিরকে বিঁধলেন – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।।

বাংলা জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যে প্রকল্পগুলি চলছে সেই প্রকল্পের টুকলি করে অন্যান্য রাজ্যে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু তারপরও তারা বেঁধে দিচ্ছে কিছু গাইডলাইন।
কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়স হলেই বাংলার প্রতিটি মহিলা , পুরুষ , যুবক যুবতী ছাত্রছাত্রী সকলেই উপকৃত হন, তার পাশাপাশি লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পও আজীবন চলবে-
পাণ্ডবেশ্বর এর জনসভা থেকে এমনই দাবি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে বৃহস্পতিবার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাই ভোল্টেজ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহা ফুটবল মাঠে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই জনসভা কে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন থেকেই প্রস্তুতিপর্ব ছিল তুঙ্গে।
এদিন সকাল থেকেই কোনরকম কোন বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারা খনি অঞ্চল সহ লাউদোহা ফুটবল মাঠে ছিল পুলিশ প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা সাথে ছিল পুলিশ কুকুর ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চলছিল খুঁটিয়ে সভাস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে ১:৩০ টার মাঝামাঝি সময় লাউদোহা ফুটবল মাঠে তৈরি হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারে করে পৌঁছায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে কেউ আশার বাণী, কেউবা একটিবার দেখার জন্য সকাল থেকেই ফুটবল মাঠ ও সভাস্থলে তৃণমূল কর্মী সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ জনের স্রোত নেমেছিল।

মঞ্চে উঠতেই মাইক্রোফোন হাতে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সহ জেলার আরো আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন করে জয়ী করানোর আর্জি জানাই জেলাবাসীর কাছে, এমনকি প্রতিটি ভাষা ও ধর্মের মানুষজন ও তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসবকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মাননীয়া।
পড়ে দীর্ঘ ১৫ বছরে আসানসোল সহ পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা জুড়ে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন সকলের সামনে।
যেখানে উঠে আসে, তৃণমূল সরকারের আমলে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট তৈরি, আসানসোল কে নতুন জেলার মান দেওয়া, তার সাথে আসানসোল মাল্টি সুপার হসপিটাল ছাড়াও আসানসোল কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর তৈরির কথাও এদিন গুরুত্ব পাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণে।
তার পাশাপাশি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় যে ব্যাপক হারে উন্নয়ন হয়েছে তার খতিয়ানও একের পর এক তুলে ধরেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
তবে সরকারের উন্নয়নের ডালি তুলে ধরা এবং ২৬ শের নির্বাচনী প্রচার ছাড়াও এদিন তীব্র বাক্যবাণে এস আই আর সহ আরো বেশ কিছু বাংলা বিরোধী কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে বিরোধী শিবির বিশেষ করে বিজেপিকে আক্রমণ শানাতে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে।
এস আইরের নামে বাংলার মানুষকে চূড়ান্তভাবে হয়রানি এবং অযাচিতভাবে নাম কেটে দেওয়ার কথা বলতে গিয়ে জানান -এরা সব লুট করে মানুষকে ঝুট বলে।
এছাড়াও তিনি তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিটি কর্মী সমর্থক এবং সংগঠনের নেতা নেতৃত্বদের নির্দেশ দেন এসআইআরে যাদের নাম বাদ গেছে তাদের সকলের পাশে থেকে লড়াই করতে হবে।
তাছাড়াও এদিন দেশের গণতন্ত্র এবং সংবিধান যে সংকটের মুখে রয়েছে তার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, বিজেপি ইসিএল থেকে শুরু করে বিসিএল,রেল, সেল , এল আই সি সহ সমস্ত কিছুই বিক্রি করে দিচ্ছে তার কথাও এদিন তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস সংকটের বিষয়টিকে সামনে রেখে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন একটা গ্যাস অর্ডারের ২৫ দিন পর আরও একটা সিলিন্ডার পাবে সাধারণ মানুষ, তাহলে কি গ্যাস ফুরিয়ে গেলে মানুষ হাওয়া খাবে ? এমনই মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি জানান, গ্যাস দেবে গ্যাস বেলুনের মাধ্যমে নিজেদের প্রচার করার জন্য মানুষের রান্নার ঘরে গ্যাস দেবে না কেন্দ্র।
অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে গ্যাসের দাম এবং বর্তমানে গ্যাসের দাম কে নিয়েও একহাত নেন বিরোধী শিবির কে।
অন্যদিকে বাংলা জুড়ে তৃণমূল সরকারের চলা প্রকল্পগুলির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান সময়ে বিজেপি বাংলার প্রকল্পকে টুকলি করে অন্য রাজ্যে দিচ্ছে কিন্তু সেখানে তারা বেছে বেছে দিচ্ছে যাদের টিভি আছে এমনকি যাদের স্কুটি আছে , মোবাইল ফোন আছে তাদের কাউকে দিচ্ছে না। সে জায়গায় আমাদের বাংলার প্রতিটি মানুষ বাংলার প্রতিটি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পায়।
স্বাভাবিকভাবেই এদিন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে পাণ্ডবেশ্বর এর জনসভায় একপ্রকার রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
সবশেষে তিনি জানান, যতই চক্রান্ত করুক আমরা সমস্ত প্রতিকূলতা কে অতিক্রম করে লড়াই করতে রাজি আছি। মঞ্চে ভাষণের শেষে আদিবাসী মহিলাদের হাতে হাত রেখে ধামসা মাদলের তালে নৃত্য করে সভাস্থল ছাড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনসভা জেলায় শাসকদলের কাছে এক বড় ধরনের টনিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।


Leave a Reply