আহমেদ বাপি, ৮ ফেব্রুয়ারি, মালদা

বাড়িতে নেই কোন টিভি নেই কোন ফ্রিজ জলে শুধুমাত্র এক থেকে দুটি বাল্ব ফ্যান তার উপর আবার ইলেকট্রিকের মিটার খারাপ হয়ে পড়েছে রিডিং হয় না মিটারের লাইট ও জলে না এরকম পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের বিল ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আসছে গাড়িতে মত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহকদেরকেউ দিনমজুর কেউ আবার বিড়ি বাধার কাজ করে। সেইসব পরিবারগুলির দিনমজুরি করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন , সেইসব পরিবারের কারোর বাড়িতে এসেছে ২৫ হাজার টাকার বিদ্যুতের বিল, আবার কারোর বাড়িতে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিদ্যুতের বিল। কারোর বকেয়া রয়েছে তিন মাসের। আবার কারোর বকেয়া রয়েছে ছয় মাসের বিল। আর সেই সব বিদ্যুতের বিল এই ভাবেই পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

যাতে করে রীতিমত ক্ষোভ ছড়িয়েছে মোথাবাড়ি থানার রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগলপুর গ্রামে। ইতিমধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা মালদায জেলাশাসকের প্রীতি গোয়েলের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মালদার রিজিওনাল ম্যানেজার সৌমেন দাস জানিয়েছেন, কিভাবে এই ঘটনাটি ঘটলো অবশ্যই সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের এনিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে নাl

সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর কৈলাস সরকার বলেন, তার বাড়িতে ২৫ হাজার টাকা বিদ্যুতের বিল পাঠানো হয়েছে। অথচ কোনও রিডিং নেওয়া হয় নি। বাড়িতে দুই থেকে তিনটি বাল্ব এবং গরমে একটি ফ্যান চলে। তার বাইরে না টিভি আছে, না ফ্রিজ । কেন এত টাকার বিলের পাহাড় কিছুই বুঝতে পারছি না।
একইভাবে ওই গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল সরকার, , রুমা সরকার , দুলু সরকার বলেন, বাড়ির পুরুষেরা ভিন রাজ্যে দিনমজুরি করে। রাতে ব্যবহারের জন্য কয়েকটি সাদা আলো রয়েছে। বাড়িতে শুধু এক থেকে দু’টি বাল্ব জলে নেই কোন টিভি না নেই কোন ফ্রিজ না টোটো চার্জ হয়। ইলেকট্রিকের মিটার দীর্ঘদিন ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে মিটারে কোন রিডিং দেখা যায় না মিটারের ভিতরে আলো জলে না l কিন্তু তারপরেও কাউকে ৫০ হাজার টাকা, আবার কাউকে তিন মাসের ৪০ হাজার টাকা বিল পাঠানো হয়েছে। এত টাকা দিব কোথা থেকে কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। এরকম ভুল কাদের জন্য হলো, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পুরো বিষয়টি প্রশাসন কে জানানো হয়েছে lযদিও এই ঘট

নার বা সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য বাবু সরকার l তিনি জানান গ্রামবাসীদের মিটার গুলি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে আমি তাদেরকে নিয়ে দপ্তরে গিয়েছিলাম কিন্তু কেউ শুনেনি l জেলা শাসক কেও গ্রামবাসীরা জানিয়েছে তাতে এখনো কোনো সমাধান হয়নি l দিদিকে বল কে ফোন করেও কোন সমস্যা সমাধান হয়নি l আমরা চাচ্ছি যাতে এই সমস্যার সমাধান দ্রুত হোক l মিটার গুলি অকেজো হয়ে রয়েছে মিটারগুলোকে চেঞ্জ করা উচিত l এত টাকা বিল আসার কথা নয় l বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত এবং মিটারগুলিকেও যাতে চেঞ্জ করা হয় l
উত্তর মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি অভিষেক মিশ্র জানান এ সরকার মানুষকে খালি শোষণ করতে পারে l আজকে ইলেকট্রিকের নাম করে বিপিএল তালিকার দারিদ্র সীমার মানুষগুলির বাড়িতে ভুতুড়ে বিল পাঠালো l যেখানে কিনা বিলে কার বাড়িতে ৫০ হাজার আরও এতে ২৫ হাজার বিল পাঠানো। আসলে বিদ্যুৎ দপ্তর এর টাকা গুলিকে হাত হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে l আমরা এই পরিবার গুলির পাশে রয়েছি আগামী দিনে এই পরিবার গুলির যে বর্তমান সমস্যা বিদ্যুতের বিল যে সম্পূর্ণভাবে মুকুব না করে দেওয়া হয়। তাহলে বিজেপি প্রতিটা বিদ্যুৎ দপ্তরকে বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে প্রয়োজনে ঘেরাও করবl
বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানির মালদার রিজিওনাল ম্যানেজার সৌমেন দাস বলেন, সাধারণ গ্রাহকদের কাছে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এব্যাপারে গ্রাহকদের চিন্তা করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা নিবে।


Leave a Reply