রাজ্য জুড়ে ধর্ষণ খুন চাকরি চুরি, বালি কাঠ পাথর চাল চুরি সহ বিভিন্ন দুর্নীতির প্রতিবাদে বিজেপির পথ অবরোধ কর্মসূচি বাঁকুড়ার সিমলাপালে।
বুধবার বিজেপির তালডাংরা তিন নম্বর মন্ডলের তরফে বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের ওপর সিমলাপালির স্কুল মোড়ে ওই কর্মসূচি হয়।
উপস্থিত ছিলেন বিজেপির তালডাংরা বিধানসভার 3 নম্বর মন্ডল এর সভাপতি সৌভিক পাত্র সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মী সমর্থকরা। সৌভিক বাবু বলেন, কসবায় ছাত্রীর ওপর তৃণমূলের নেতাদের পাশবিক অত্যাচারের
প্রতিবাদে ও একই সঙ্গে রাজ্য জুড়ে চাকরি চুরি, বালি চুরি সহ বিভিন্ন দুর্নীতি স্থানীয় বিভিন্ন দুর্নীতির প্রতিবাদে এদিনের পথ অবরোধ কর্মসূচি করা হয়। এদিন প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। অবরোধের জেরে আটকে পড়ে বহু পন্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে উঠে যায় অবরোধ।
চুরির অভিযোগের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই চুরি যাওয়া সোনার গহনা সহ নগদ টাকা উদ্ধার করল বিষ্ণপুর থানার পুলিশ। গ্রেফতার দুই দুষ্কৃতি।
ধৃতদের পেশ করা হচ্ছে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করছে পুলিশ। জানা গেছে গত ৩০ জুন বিষ্ণুপুর শহরের ভগত সিং মোড়ের কাছে একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। বাড়িতে কেউ না থাকার কারনে সেই বাড়ির জানালার সিক ভেঙে বাড়ির মধ্যে ঢুকে সোনার গহনা ও নগদ টাকা চুরি করে চম্পট দেয় চোরের দল। নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা চুরি হয়ে যায় বলে দাবি পুলিশের।
বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ জানানোর পরেই পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে দুইজনকে সনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে বাঁকুড়া শহরে একটি সোনার দোকানে বিক্রি করতে যাওয়ার পথে তাজ মহম্মদ ওরফে বাঁকা ও আলি মহম্মদ ওরফে রিন্টু নামে দুই জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া নগদ টাকা ও সোনার গহনা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ধৃতদের বুধবার পেশ করা হচ্ছে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে।
পুলিশ জানিয়ে ধৃত দুজনের সাথে যুক্ত রয়েছে আরও দুজন তাদের খোজ চলছে। বিষ্ণুপুর বাইপাশে একটি বড় বাড়ি টার্গেট করেছিল তারা তবে সেই বাড়িতে সিসি ক্যামেরা থাকার কারনে সেই বাড়ি ছেড়ে ভগত সিং মোড়ের একটি বাড়ির জানালান সিক ভেঙ্গে ঢুকে চুরির ঘটনা ঘটায় দলটি।
বাইকের টুলবক্স খুলে পঞ্চাশ হাজার টাকা লুট করেও শেষ রক্ষা হলো না। কোতুলপুর পুলিশের হাতে ধৃত ভিন রাজ্য বিহারের কাটিহার গ্যাংগের চার দুষ্কৃতী। ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর বেশ কয়েকদিন আগে কোতুলপুর থানার হাজরা পুকুরের এক বাসিন্দা ও তার জামাই কোতুলপুরের ব্যাংক থেকে পঞ্চাশ এক টাকা তুলে তা বাইকে টুলবক্সে রেখে বাড়ি ফিরছিল,কোতুলপুর ব্লকের বামননাইরী মোড়ের দোকানের সামনে বাইক রেখে মিষ্টি কিনতে ঢুকেছিলেন সেইসময় দুইজন যুবক টুল বক্সের টাকার ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় দুই দুষ্কৃতী। টাকা চুরির ঘটনার খবর দেওয়া হয় কোতুলপুর থানায়, কোতুলপুর থানার পুলিশ শুরু করে দ্রুত তদন্ত ,তদন্ত নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সূত্র মারফতে সন্ধান পান, বিহার কাটিহার গ্যাংয়ের সদস্যদের খুঁজে পান, খুঁজে পান যোগ সাজোস।
সেইমতো মঙ্গলবার চার দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করে কোতুলপুর থানা পুলিশ, বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের দুদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
অভিযোগকারী নারায়ণদের জামাই গুরুদাস পাল বলে কিছুদিন আগে বিশেষ প্রয়োজনে কোতুলপুরে একটি রাষ্ট্রীয়ত্ব ব্যাংক থেকে শ্বশুর মশাই পঞ্চাশ হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। আমি তাকে বাইকে করে নিয়ে গিয়েছিলাম টাকা তোলার পর বামুননায়রী একটি দোকানে মিষ্টি কিনতে ঢুকেছিলাম তখন ওই দুই যুবক দোকানে ঝামেলা করছিল তার কিছুক্ষণ পরে আমি বাইকের দিকে তাকাতেই দেখি টুল বক্স খোলা। সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে দেখি টাকার ব্যাগ উধাও।
টুলবক্সের অন্য একটি ব্যাগে পাসবই,আধার,ভোটার কার্ড সহ অন্যান্য কাগজপত্র ছিল সেগুলিও দুষ্কৃতীরা নিয়ে পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায়। মিষ্টি দোকানে ঝামেলার অছিলায় দুজন নজর ঘোরানোর চেষ্টা করে,তখন অন্য দুজন বাইকে করে টুলবক্স খুলে পরে দোকানে ঝামেলা করা দুই যুবকও পালিয়ে যায়। আমার মনে হয় ওরা ব্যাংক থেকে আমাদের ফলো করছিল। এই বিষয়ে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন বিহারের কাটিহারের একটি দল দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ব্যাংকের গ্রাহকদের টার্গেট করছিল।
টাকা তুলে বেড়ানোর পরই তাদের অনুসরণ করছিল নির্জন জায়গায়। তারা ব্যাগ ছিনিয়ে চম্পট দিচ্ছিল, সেই সুযোগ না পেয়ে ওই দলের একাংশ এই পন্থা অবলম্বন করছিল। পূর্ব বর্ধমান,আসানসোল,বাঁকুড়া সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই নিয়ে অভিযোগ হয় অনেক।
এর ঘটনায় কাটিহার গ্যাংগের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। তার ভিত্তিতে এই গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলছে আরও তদন্ত এবার মেন মাথার খোঁজে চলছে তল্লাশি।
বছরের পর বছর ধরে বেহাল রাস্তা, তার উপর জল যন্ত্রণা, প্রাণের ঝুকিনিয়ে যাতায়াত অযোগ্য রাস্তাতেই। এবার সেই রাস্তা ছাড়া এর উদ্যোগ নিল বিজেপি বিধায়ক খুশি গ্রামবাসীরা।
রঞ্জিত কুন্ডু-বাঁকুড়া
বাঁকুড়ার ইনদাস বিধানসভার রোল গ্রাম পঞ্চায়েতের দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার রাস্তার হাল বেহাল, রাস্তা সাড়াই এর উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। বর্ষা আসলেই এবার সেই হাটু সমান কাদা, দিয়েই যাতায়াত করতে হয় স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে গ্রামবাসীদের ।
কাদা যন্ত্রণায় নাজেহাল হয়ে পড়ে গ্রামের মানুষ। এই রাস্তার উপর দিয়েই যেতে হয় স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের থেকে শুরু করে বাজার হাট সবেতেই একমাত্র ভরসা এই রাস্তা। আর সেই রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। দেখেও দেখেনা প্রশাসন। বারবার বেহাল রাস্তার যন্ত্রণার কথা ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন নিবেদন করলেও মেলেনি সুরাহা, প্রায় ১০-১২ বছর ধরে এভাবেই পায়ের কাদা মাথায় নিয়ে চলতে হচ্ছে বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের রোল অঞ্চলের বিড়ি শিমুল গ্রামের বাসিন্দাদের।
এবার সেই গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ালো ইন্দাস বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধারা। গ্রামবাসীদের দাবি বিধায়ক নির্মল ধারা নিজের জমানো টাকা খরচা করে রাস্তায় চলাচলের যোগ্য করে তুলছেন রাস্তাই খেলা হচ্ছে লাল মোরাম। সম্পূর্ণ রাস্তা মেরামতি না করতে পারলেও যাতায়াতযোগ্য করে তোলায় খুশি গ্রামের মানুষ।।
খাতড়া : বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ ভাঙল পুলিশের বেরিকেড। সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টির বাঁকুড়া জেলার পক্ষ থেকে রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় নারী নির্যাতন সহ খাতড়ায় বিজেপি কর্মীদের ওপর মিথ্যা কেস দেওয়ার প্রতিবাদে খাতড়া শহরের মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে বিজেপি থানা ঘেরাও অভিযানের ডাক দিয়েছিল।
এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে খাতড়া থানার কিছুটা আগে খাতড়া বাজারের থানা রোডের ওপর ব্যারিকেড করে বিজেপি কর্মীদের আটকানোর ব্যবস্থা করে। এদিন বিকেলে বিজেপির নেতাকর্মীরা খাতড়া বাজারে মিছিল করে খাতড়া থানার কাছাকাছি এসে পৌঁছতেই পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যায় তারা। ব্যারিকেডের উপরে উঠে মাটিতে ফেলে দেয় ব্যারিকেডে।
বিজেপি কর্মীদের আটকাতে নাজেহাল হয় খাতড়া থানার পুলিশ বাহিনী। ব্যারিকেড ভেজে দিয়ে ঐখানেই অবস্থান কর্মসূচি করে বিজেপি। অবস্থান কর্মসূচিতে বিজেপির নেতাকর্মীরা রাজ্য সরকার সহ মিথ্যা কেস দেওয়ার প্রতিবাদে খাতড়া থানার পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
ফের নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ার সোনামুখীতে । গতকাল বিকালে এক নাবালিকাকে স্থানীয় একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে গিয়ে এক টোটো চালক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার পরিবারের তরফে অভিযোগ পেতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে আজ বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সোনামুখী থানা এলাকার বাসিন্দা বছর দশ বয়সী এক নাবালিকা গতকাল সাইকেলে চড়ে এলাকার একটি দোকানে চিপস কিনতে যায়। সেই সময় আচমকাই সেখানে হাজির হয় স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় টোটো চালক সপ্তর্ষী নাগ ওরফে পিন্টু নাগ। অভিযোগ সপ্তর্ষী ওরফে পিন্টু ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি পুকুরের পাড়ে।
সেখানে ওই নাবালিকাকে ওই যুবক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোনোক্রমে ওই নাবালিকা বাড়িতে ফিরে পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। এরপরই নির্যাতিতার পরিবারের লোকজন অভিযুক্তর বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে ধরে সোনামুখী থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পরে নির্যাতিতার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করে। আজ ধৃতকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ। অভিযুক্তর কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা।
জঙ্গল থেকে পিকআপ ভ্যানে করে গাছ চুরি করে পালাতে গিয়ে বিপদে পড়ল চোরের দল, বনদপ্তরের হাতে পাকড়াও গাড়ি উদ্ধার কাঠ।
জঙ্গল থেকে গাছ চুরি করে রাতের অন্ধকারে পালাতে গিয়ে, ভিজে মাটিতে গাড়ি বসে গিয়ে বিপদে পড়ল গাছ চোরের দল এমনই ঘটনা সাক্ষী থাকলো বাঁকুড়া উত্তর গণবিভাগের বাঁকুড়া ফরেস্ট রেঞ্জের বেলবনি বিটের অন্তর্গত উপরবান্দি গ্রামে ।
জানা যায় উপরবান্দি গ্রামে ঢোকার আগেই বাঁদিকের জঙ্গল থেকে রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে পাচার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী। দুর্ভাগ্যক্রমে ভিজা মাটিতে কাঠ বোঝাই করা পিকআপ ভ্যানটি আটকে যায় জঙ্গলের মাঝে পিকআপ ভ্যানটিকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও বিফলে যায় সেই চেষ্টা। ফলে সকালেই বন কমিটি ও গ্রামের লোকেদের চোখে পড়ে।
রীতিমতো খবর দেয়া হয় বেলবনি বিট অফিসে, বেলবনি বিট অফিসের পক্ষ থেকে কাটা গাছ ও গাছ বোঝায় পিকআপ ভ্যানটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে নিয়ে আসে বনদপ্তরের অফিসে। কারা পাচার করছিল জঙ্গলের কাঠ, কারা এর সাথে যুক্ত তার তদন্ত করছে বলে জানান বনদপ্তর।
পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-হাওড়া নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু, উদ্বোধন রেলমন্ত্রীর।
আজ ২৮ জুন ঐতিহাসিক এক দিনের সাক্ষী থাকল দক্ষিণবঙ্গ। চালু হলো বহু প্রতীক্ষিত পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-হাওড়া ভায়া মশাগ্রাম নতুন ট্রেন পরিষেবা। সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব।
দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটি পুরুলিয়া স্টেশন থেকে ছেড়ে বাঁকুড়ায় পৌঁছায় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। এরপর মশাগ্রাম হয়ে রাত ৯টা ১০ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছাবে এই ট্রেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় তিনি নিজেও আনন্দ প্রকাশ করেন।
বাঁকুড়া স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছানো মাত্রই জেলার বিজেপি বিধায়ক ও নেতারা সবুজ পতাকা নেড়ে ট্রেনকে স্বাগত জানান। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার, বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা, দিবাকর ঘরামি সহ জেলার অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব এই সময় উপস্থিত ছিলেন। সোনামুখী সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতেও বিজেপি কর্মীদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।
রেলযাত্রীরা জানিয়েছেন, নতুন এই ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় তারা অত্যন্ত খুশি। কেউ কেউ প্রথম দিনের যাত্রা উপভোগ করতে কলকাতা থেকেও ছুটে এসেছেন। সকলের মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। জেলা বাসীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই ট্রেন পরিষেবা তাদের যাতায়াতকে অনেকটাই সহজতর করবে বলেই আশাবাদী সকলেই।
_*দ্বারকেশ্বর নদে ফের দুর্ঘটনা, সামরোর ব্রিজ বেড়াতে এসে স্নান করতে নেমে নদীর জলে তলিয়ে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বাঁকুড়ার ইন্দাস ও কোতুলপুরে।
আবারো ফের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল দারকেশ্বর নদীতে, এবার স্নান করতে নেমে নদীর জলে তলিয়ে গিয়ে ঘটনায় মৃত ৯ বছরের শিশু। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতুলপুর ও ইন্দাস থানার সংযোগকারী সামড়োঘাট ব্রিজের নিচে দ্বারকেশ্বর নদে স্নান করতে নামে চারজন ছাত্র। তারা সকলেই ইন্দাস থানার আমরুল অঞ্চলের বাসিন্দা। স্নানের সময় হঠাৎই জলের তোড়ে তলিয়ে যায় তিনজন ছাত্র।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় দু’জনকে কোনওক্রমে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ ছিল ৯ বছরের শেখ সলমন। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইন্দাস ও কোতুলপুর থানার পুলিশ ও প্রশাসন।
প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় শেখ সলমনের নিথর দেহ।
উল্লেখ্য, এই একই দ্বারকেশ্বর নদেই মাত্র দু’দিন আগেই বিষ্ণুপুরের তিন ছাত্র ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। তার পরেই ফের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। নদী পারাপার বা স্নানের সময় আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
বাঁকুড়া জেলার কৃষিজীবী মানুষদের জন্য সুখবর। চলতি মরসুমে প্রথমবারের জন্য মুকুটমণিপুরের কংসাবতী জলাধার থেকে জল ছাড়া হল। সেচ দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত বারোটা নাগাদ জলাধারের চারটি গেট খুলে প্রায় ছয় হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয় কংসাবতী নদীতে।
গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া সম্ভাব্য নিম্নচাপের আশঙ্কায় জলাধারের জলস্তর দ্রুত বেড়ে চলেছে। সোমবার রাত পর্যন্ত ওই স্তর দাঁড়ায় ৪২৫.৭৫ ফুটে। ফলে অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে না পেরে আগেভাগে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেচ দপ্তর।
এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন গ্রামীণ এলাকার কৃষকরা। ইতিমধ্যেই আলু তোলা হয়ে গেছে, তিলও কাটার কাজ প্রায় শেষ। এবার এই বিনামূল্যের জল ব্যবহার করে জমিতে আউশ ও আম্রপালি ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন কৃষকেরা। এর ফলে সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে জলের জন্য বাড়তি খরচের হাত থেকেও রেহাই মিলেছে।
গ্রামের কৃষকদের মতে, “প্রতিবার জল কিনতে গিয়ে 1 বিঘা প্রতি অনেক টাকা চলে যায়। এবার জলাধার থেকে জল পেয়ে আমরা খুবই খুশি। হাতের কাছে জল থাকলে জমি বাঁচে, ফসল বাঁচে।”
সেচ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “জলাধারে অতিরিক্ত জল জমা হতে থাকলে আরও কয়েক দিন এমনভাবে জল ছাড়া হতে পারে।
এই খবরের পর বাঁকুড়া ও আশেপাশের অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ। বীজতলা তৈরির পাশাপাশি অনেকে আগাম জমি তৈরি করে ফেলছেন আগামী চাষের জন্যও।