
পিতলের ঐতিহ্যবাহী রথে বিরাজ করেন শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল ঠাকুর জিউ
পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রার সঙ্গে মিল থাকলেও বিষ্ণুপুরের মাধবগঞ্জের রথ উৎসবের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য। এখানে রথে আরোহন করেন না জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পরিবর্তে মল্লরাজাদের আমল থেকে একই নিয়মে পিতলের ঐতিহ্যবাহী রথে বিরাজ করেন শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল ঠাকুর জিউ। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই হরিনাম সংকীর্তন, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ভক্তদের ‘জয় গোপাল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিষ্ণুপুরের মাধবগঞ্জ এলাকা। ৩৬১ বছরের ঐতিহ্য মেনে শুরু হল মাধবগঞ্জ ১১ পাড়া রথযাত্রা উৎসব।ইতিহাস বলছে, ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের আমলে রানী শিরোমণি দেবীর ইচ্ছায় মাধবগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয় পাথরের পাঁচচূড়া মন্দির। সেই মন্দিরেই প্রতিষ্ঠা করা হয় শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল ঠাকুর জিউকে।


একই সময়ে নির্মিত হয় পিতলের সুদৃশ্য রথ। সেই থেকে আজও একদিনের জন্যও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রতি বছর রথযাত্রার সকালে নির্দিষ্ট শুভক্ষণে মন্দির থেকে হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে বিগ্রহকে এনে পিতলের রথে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূজা, আরতি ও নানা মাঙ্গলিক আচার সম্পন্ন হওয়ার পর ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয় রথের রশি। হাজার হাজার মানুষ সেই রশিতে টান দিয়ে নিজেদের ধন্য মনে করেন।শুক্রবার সকাল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ মন্দির থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। ভক্তদের কীর্তন, ঢাক, খোল-করতালের তালে রাধামদন গোপাল ঠাকুরকে নিয়ে যাওয়া হয় পিতলের রথে। পরে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বিশেষ পূজা ও আরতি। এরপর সাধারণ মানুষ, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা রথের রশিতে টান দেন। সকাল থেকেই মাধবগঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকায় উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। শুধু বিষ্ণুপুর নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বহু পুণ্যার্থী এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় যোগ দিতে আসেন।



Leave a Reply